ঢাকা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিবেশী কোনো দেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে।’
শনিবার (৮ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকেও বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর ‘ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল’-এর বোঝা চাপানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের ওপর বাড়তি বিলের বোঝা, অন্যদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ার ভোগান্তি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও ভূতুড়ে বিলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মফস্বল অঞ্চলে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
দেশের গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা ও পরিবহণ খাতে তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে কালক্ষেপণ না করে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ জনগণের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, আইনবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।