Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জনঅংশগ্রহণমূলক বিকল্প বাজেট উপস্থাপনে জোর দিতে হবে: ডিবিএম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৫ ১২:২১ | আপডেট: ২১ মে ২০২৫ ১৯:১৭

ঢাকা: একটি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক বাজেট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হলে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছে ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের ডিবিএম।

বুধবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত বাজেট প্রক্রিয়ার সংস্কার, জনঅংশগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দে ন্যায্যতা সংক্রান্ত সেমিনারে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বাজেট আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং একইসঙ্গে বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে’ — এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. প্রোফাইল আহম্মেদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়করণ আমাদের বাজেট ব্যবস্থাকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এক মতবিনিময় সভায় ড. আহম্মেদ বলেন, ‘বাজেট আন্দোলন কেবল সরকারের ব্যয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়, এটি জনগণের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আন্দোলন। স্থানীয় পর্যায়ে বাজেট পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষমতা দিতে হবে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিকেন্দ্রীকৃত বাজেট ব্যবস্থা জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতা অনুযায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করে। এতে স্বচ্ছতা বাড়ে, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে।’

ডিবিএমের সহ-সভাপতি আমানুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এবং তাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়নই একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বাজেট শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটি একটি নীতিনির্ধারণী দলিল, যা মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।’

সেমিনারে ডিবিএমের সাধারণ সম্পাদক মোনোয়ার মোস্তফা বলেছেন, ‘বিকল্প বাজেট তৈরি শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞদের কাজ নয়—এটি হতে হবে মানুষের স্বার্থ ও চাহিদার প্রতিফলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিবিএম দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প বাজেট রূপরেখা প্রণয়নে জনসম্পৃক্ততার মডেল অনুসরণ করে আসছে। তৃণমূল জনগণ, নারী, তরুণ, কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সকল অংশের মানুষদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটের দাবি জানানো হচ্ছে।’

মোনোয়ার মোস্তফা বলেন, “সরকারি বাজেটে প্রাধান্য পায় করপোরেট ও বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ। কিন্তু স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ বা কর্মসংস্থান—এসব জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কম। তাই আমাদের বিকল্প বাজেট প্রস্তাব বাস্তবমুখী ও জনগণের দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে তৈরি।”

তিনি বাজেট প্রণয়নে জনশুনানি, বাজেট সংলাপ ও অংশগ্রহণমূলক গবেষণার ওপর জোর দেন এবং এ ধরনের প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আলম বলেন, ‘তৃণমূলের নারীরা জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়া থেকে দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত। বাজার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাজেট পরিকল্পনায় নারীদের চাহিদা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। ফলে তারা আর্থ-সামাজিকভাবে আরও বেশি প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।’

শাহীন আনাম বলেন, তৃণমূলের নারীরা প্রতিদিনের জীবনে নানা রকম সংকটের মুখোমুখি হন—খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে। অথচ বাজেট পরিকল্পনায় তাদের বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। নারীকে শুধু উপকারভোগী হিসেবে না দেখে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।

প্রসঙ্গত ডিবিএম প্রতি বছর বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে থাকে যা জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই বিভিন্ন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

সারাবাংলা/এফএন/এমপি