Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চা শিল্পে শুল্ক-কর অব্যবস্থাপনা বন্ধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৫ ১৮:২৭ | আপডেট: ২১ মে ২০২৫ ২০:৩৬

পঞ্চম জাতীয় চা দিবস’ উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন – (ছবি : সংগৃহীত )

ঢাকা: বাজারে চায়ের মূল্যে স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যতার লক্ষ্যে চা শিল্পে বিভিন্ন রকম শুল্ক ও কর অব্যবস্থাপনা বন্ধ এবং এই শিল্পে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

একই সঙ্গে চা শিল্পকে শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সমানভাবে তুলে ধরতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘পঞ্চম জাতীয় চা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫’ দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় চা দিবস উপলক্ষ্যে এবছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী কারখানা ক্যাটাগরিতে দুটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

‘দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে চা রফতানি বাড়াতে সরকার কাজ করছে’ উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চা শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি এটার একটা সুষম বণ্টন করতে পারি, তাহলে চা শিল্পের যে দুষ্টু চক্রের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে জাতীয় সম্পদ চা-কে রক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা শ্রমিকদের কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছি, চায়ের উপযুক্ত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে বসেই ছোট্ট একটা হিসাব করে দেখলাম, যদি ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপন্ন হয়, এরপর যদি বাজারের মূল্যমানে বিক্রি হয়, তাতে খসড়াভাবে তিন হাজার সাতশ থেকে চার হাজার কোটি টাকার চা বাজারে বিক্রি হয়। একই সময়ে যদি স্ট্রিট ভ্যালুতে কনভার্ট করি, তাহলে মিনিমাম ডাবল থেকে ট্রিপল একটি মূল্যমান দাঁড়াবে। অর্থাৎ ভোক্তা পর্যায়ে আট থেকে ১০ হাজার টাকার ব্যয় সংঘটিত হয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, চা শিল্পের জন্য যে পরিমাণ জমি নিয়োজিত আছে, এর একটা উপযুক্ত ব্যবহার দরকার। এর অন্যান্য ব্যবহার সেটা নবায়নযোগ্য জ্বালানি হোক অথবা পর্যটন কেন্দ্র হোক, সেদিকে মনযোগ বাড়াতে হবে। তবে মূল লক্ষ্য হচ্ছে, চা থেকেই চায়ের বাগানের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। চা শ্রমিক, মালিক সকলের সম্মিলিত চেষ্টা দরকার। চায়ের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে বিক্রি মূল্য বাড়াতে হবে। বিক্রি বাড়াতে হলে চা পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও আকর্ষণীয় করতে হবে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মইনুদ্দিন হাসান, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৪ বিজয়ী চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নৃপেন পাল।

সারাবাংলা/আরএস