চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের কারও কারও আচরণ দেখলে মনে হয়, তাদের কেউ কেউ বিএনপির সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধাতে চান।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে নগরীর কাজীর দেউড়িতে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের’ সামনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকীর এক কর্মসূচিতে তিনি একথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল আলেম ও এতিমদের অংশগ্রহণে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ছিলেন আমাদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে তারা এ সমর্থনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের কারও কারও আচরণ দেখলে মনে হয়, তাদের কেউ কেউ বিএনপির সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধাতে চান।’
চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তা দূর করবার একটি মাত্র পথ আছে, সেটা হচ্ছে দ্রুত নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা। দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপই পারে রাজনৈতিক সংকট দূর করতে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এ জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খুব সাধারণ জীবনযাপনের কারণে তিনি বাংলাদেশের গণমানুষের প্রিয় নেতা হতে পেরেছিলেন। একইভাবে বিএনপিকেও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত করতে পেরেছিলেন।’
মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘নির্বাচন যত বিলম্বিত হচ্ছে, দেশ তত বেশি অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। জাতি এখন এক গভীর শঙ্কার মধ্যে আছে। দেশ এখন এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে আছে। দেশ কোথায় যাচ্ছে, কেউ জানে না। সবাই মিলে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। এরপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা এখনও পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব, অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন।’
নগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, ফজলুল হক সুমন, আব্দুল করিম, মিয়া মো. হারুন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম খান, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, শাহীন পাটোয়ারী, হেলাল হোসেন হেলাল, গুলজার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।