Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কানাডার ওপর ট্রাম্পের ৩৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুলাই ২০২৫ ১৩:৪৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্ট থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প একটি চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে ঘোষণাটি দেন। সেখানে তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বলেন, ‘আমাদের সরকার দেশের শ্রমিক ও ব্যবসাকে সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা আলোচনার শেষ সীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এ সপ্তাহে ট্রাম্প ২০টিরও বেশি চিঠি পাঠিয়েছেন অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের উদ্দেশ্যে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরও নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব শুল্কও ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক এরইমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি শিল্পে আরোপিত শুল্কে কানাডাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সিইউএসএমএ) অনুসারে কিছু পণ্য এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির আওতায় এই চুক্তির পণ্যগুলোও পড়বে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প ইতিমধ্যে গ্লোবালভাবে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামে ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত নয় এমন সব গাড়ি ও ট্রাকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এছাড়া কপার আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আগামী মাসে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বাজারে কানাডা তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ পণ্য বিক্রি করে, এবং দেশটি একটি বড় গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র ও ধাতব সরবরাহকারী, ফলে এই শুল্ক পদক্ষেপ কানাডার এসব খাতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, যদি কানাডা বা কানাডার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করে, তাহলে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।’

তিনি কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল প্রবাহ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ শিল্পের ওপর কানাডার বিদ্যমান শুল্ক ও দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কানাডা আমার সঙ্গে মিলে ফেন্টানিল প্রবাহ বন্ধে কাজ করে, তাহলে এই চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী কারনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় ফেন্টানিল রোধে কানাডা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আমরা আমাদের কমিউনিটিকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে যাব।’

মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যত ফেন্টানিল আটক হয়, তার মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ আসে কানাডা সীমান্ত দিয়ে। বেশিরভাগ মাদক জব্দ হয় মেক্সিকো সীমান্তে।

জুন মাসের জি-সেভেন সম্মেলনে ট্রাম্প ও কারনি ঘোষণা করেছিলেন, ৩০ দিনের মধ্যে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। এই অনুযায়ী ২১ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে আলোচনার চূড়ান্ত সময়সীমা।

চিঠিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কানাডা পালটা শুল্ক আরোপ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও শুল্ক আরোপ করবে। এরইমধ্যে কানাডা কিছু পালটা শুল্ক দিয়েছে এবং আলোচনায় ব্যর্থ হলে আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো