Tuesday 22 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এমপিআই প্রতিবেদন ২০২৫ / দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৩৪ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২৫ ২২:৪২

বাংলাদেশে বহুমাত্রিক (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক জীবনযাত্রার মান) দরিদ্রের হার বেশি। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: দেশে সাধারণ (আর্থিক বা আয়গত দিক থেকে) দরিদ্রের তুলনায় বহুমাত্রিক (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক জীবনযাত্রার মান) দরিদ্রের হার বেশি। গত ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে সাধারণ দরিদ্রের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে নগর দরিদ্রের হার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ দরিদ্রের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে সর্বশেষ গত জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র। অন্যদিকে বহুমাত্রিক দারিদ্রের গড় তীব্রতা আরও বেশি (৪৪ দশমিক ১৭ শতাংশ)।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ‘বহুমাত্রিক দরিদ্র সূচক’ (এমপিআই) ২০২৫ প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন-এর সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

বিজ্ঞাপন

জিইডি বলেছে, এমপিআই হচ্ছে বিশ্বব্যাপী তীব্র দারিদ্র্যের একটি পরিমাপ। এটি পরিমাপে তিনটি বিষয়- স্বাস্থ্য (পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্য), শিক্ষা (স্কুলে উপস্থিতি ও স্কুলে পড়াশোনার বছর) ও জীবনযাত্রার মান (বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, পানীয় জল, আবাসন, রান্নার জ্বালানি, সম্পদ, ইন্টারনেট ব্যবহার ইত্যাদি) অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার শহরে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ এবং পল্লী অঞ্চলে প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে লিঙ্গভেদে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার (২৪%) এবং দারিদ্রের গড় তীব্রতা প্রায় কাছাকাছি (৪৪%)।

এ ছাড়া, বয়স ভেদে এবং বিভাগ/জেলাওয়ারি বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার ও দারিদ্রের গড় তীব্রতা পরিমাপ করা হয়েছে। শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এ হার ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

খুলনা বিভাগে বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার সবচেয়ে কম (১৫%) এবং সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে (৩৭.৭%)। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৬.৯৫%; রাজশাহী বিভাগে ২২.২৬%; রংপুর বিভাগে ২৫.০৪%; চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭.২৪% ও ময়মনসিংহ বিভাগে বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার ৩৪.৯৫%।

অন্যদিকে জেলা পর্যায়ে বৈষম্য আরও তীব্র। পাঁচটি জেলায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। সবচেয়ে কম ঝিনাইদহে মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ এ শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। কক্সবাজার ও সুনামগঞ্জ উভয় জেলায় ৪৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে এ হার ৬৫ শতাংশ।

জিইডি বলেছে, দারিদ্র্য হ্রাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এর জন্য বহুমুখী ও আন্তঃক্ষেত্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথম জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক জাতীয় আর্থিক দারিদ্র্য পরিমাপের পরিপূরক। জাতীয় এমপিআই’র উদ্দেশ্য হলো- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সরকারি পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা। প্রণীত প্রতিবেদনটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বাজেট সিদ্ধান্ত এবং সম্পদ বরাদ্দ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্রতমদের চিহ্নিত করার জন্য একটি ব্যবহারিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

জিইডি’র প্রতিবেদনে বহুমাত্রিক দারিদ্রতা কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ এমপিআই হার সম্পন্ন জেলাগুলিতে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে- এমন বিভিন্ন ধরণের বঞ্চনা কমাতে আবাসন, স্যানিটেশন ও ইন্টারনেট সুবিধা উন্নত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/আরএস
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো