Tuesday 22 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছাত্র রাজনীতি সংস্কারে ছাত্র ফেডারেশনের ৯ প্রস্তাবনা

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৮ আগস্ট ২০২৫ ০০:০৩ | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২৫ ০০:০৬

ঢাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন।

ঢাকা: নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনসহ ছাত্র রাজনীতি সংস্কারের জন্য ৯টি প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ কেন্দ্রের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি আরমানুল হক।

লিখিত বক্তব্যে আরমানুল বলেন, ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত ছাত্রসমাজ বারবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। ছাত্রলীগের দমন-পীড়ন, গেস্টরুম-গণরুমের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই এই বিজয় অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘১৯৮৫ সালে ছাত্র ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তিমূলক ছাত্র রাজনীতির বিরোধিতা করে সচেতন ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শামসুন্নাহার হল আন্দোলন, ২০-২২ আগস্টের ছাত্র আন্দোলন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যকীকরণবিরোধী আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও ছাত্র ফেডারেশনে তার সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে লড়াই করেছে। ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদেরও প্রত্যাশা ছিল ছাত্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের আলাপ-আলোচনা সবাই মিলে শুরু করার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই আলোচনা আবার শুরু করার সুযোগ এসেছে। আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরছি এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকেও একই আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে ছাত্র রাজনীতির গুণগত রূপান্তর সম্ভব হয়।’

তাদের প্রস্তাবনাগুলো হলো—

১। নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন: ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত দিনে আয়োজন করতে হবে; ব্যর্থতা প্রশাসনের দায়।

২। গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতি: নিষিদ্ধ সংগঠন বাদে সব ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

৩। সহিংসতা ও অপরাধে জিরো টলারেন্স: টর্চার সেল, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বহিষ্কার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রিহ্যাব চালু করতে হবে।

৪। অনলাইন অপপ্রচার প্রতিরোধ: সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারে জড়িতদের শাস্তি ও ডিজিটাল সচেতনতা কর্মশালা চালু করতে হবে।

৫। মতপ্রকাশ ও মানবাধিকার: সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে; বিভাজন ও ধর্মীয় অপব্যবহার চলবে না।

৬। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সব সংগঠনের কাঠামো ও সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে; গুপ্ত রাজনীতি চলবে না।

৭। সন্ত্রাসবিরোধী সেল গঠন: ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে হলে ও কেন্দ্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী সেল গঠন করতে হবে।

৮। আবাসিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা: হলের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে থাকতে হবে; নিরাপত্তাহীনতার দায় প্রশাসনের। হল ও অনুষদভিত্তিক রাজনীতি সমর্থনযোগ্য।

৯। জুলাই অভ্যুত্থানের হামলাকারীদের বিচার: হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; মতপ্রকাশে কাউকে হয়রানি নয়, বরং সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সারাবাংলা/কেকে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো