ঢাকা: বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর যেকোনো একটিকে উপেক্ষা করা বা একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করানো দেশকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন ও আমাদের নতুন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
সাকি বলেন, ‘অনেকে নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একমাত্র পথ মনে করছেন, আবার কেউ বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের বিপরীতে দাঁড় করাচ্ছেন—দুটোই বিপজ্জনক প্রবণতা। সংস্কার আমাদের করতেই হবে, আর সেই সংস্কারের জন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘‘জাতীয় সনদ ঘোষণার বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বিমত, আপত্তি ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও তা নির্বাচন ঠেকানোর অজুহাত হতে পারে না। কোনো নেতৃত্ব গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এটি সবার সম্মিলিত অর্জন।’
গণসংহতি আন্দোলনের নেতা আরও বলেন, ‘আমরা দেশের ইতিহাসে একটি ক্রান্তিলগ্নে রয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে শেষ হয়নি, মুক্তির সংগ্রাম এখনো চলমান। একদলীয় শাসন, গণতন্ত্র হত্যা ও ত্রাসের রাজত্ব আমরা দেখেছি। শেখ হাসিনা এটিকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন— ক্ষমতাকে পকেটে পুরে নিয়েছেন, জনগণকে বিভাজিত করেছেন এবং নানা ট্যাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছেন।‘
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থারও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও গণতন্ত্র যদি জনবান্ধব করা না যায়, জনগণ উপকৃত হবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে, যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে।‘
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিচার ও সংস্কারকে মুখোমুখি দাঁড় করানো ভয়াবহ হবে। রাষ্ট্রের ধারণা ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত সব ঘটনার বিচার করতে হবে এবং এই বিচারের ধারাবাহিকতা পরবর্তী সরকার পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে। নইলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘যদি আমরা নিজেদের বদলাতে না পারি, ভবিষ্যতে কেউ প্রাসঙ্গিক থাকবে না। দখল আর গায়ের জোরের রাজনীতি আর চলবে না— অভ্যুত্থান সেই সীমারেখা টেনে দিয়েছে।’