রাজবাড়ী: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমদ বকুল বলেছেন, অপরাধ প্রমাণ ছাড়াই প্রধান বিচারপতিকে হাতকড়া পরিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে—যা মহা অন্যায় হয়েছে। এসব প্রতিশোধের রাজনীতি উসকে দেবে।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাজবাড়ী জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আরবান আলীর স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
নূর আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতি কেবল রায় ঘোষণা করেছেন, যেখানে প্যানেলের সাত বিচারকের মধ্যে চারজন রায়ে সই করেছেন এবং তিনজন করেননি। এই রায় ঘোষণায় তার কোনো অপরাধ নেই। এখানে তাকে হাতকড়া পরানো মহা অন্যায় হয়েছে।
সরকারি শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ আমরা দেখেছি। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিবাদ হলো নয়া ফ্যাসিবাদ। এই নয়া ফ্যাসিবাদে মৌলবাদ প্রাধান্য পেয়েছে। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র শাসনে দুর্বলতা ছিল। তার দলের এমপিদের সীমাহীন লুটপাট শেখ হাসিনা থামাতে পারেনি। তার এমপিরা জমিদার হয়ে গেলেন। বিশাল বিশাল সব প্রসাদ তৈরি করলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের ভয়ও ছিল।
কমরেড নূর আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের ক্ষোভ ছিল। এমপিদের বাড়ি বানানোতে মানুষের চোখ টাটাতে পারে। তারা ব্যাংক লুট করেছে। কিন্তু তাদের বাড়িতে কে আগুন দিয়েছেন? সাধারণ মানুষ সেই আগুন দেয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন এই আগুন দিয়েছেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের মানসিকতার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ব্যাগের মধ্যে খুন হওয়া মানুষ পাওয়া যাচ্ছে। যেমন করে সাংবাদিক খুন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ খুন হচ্ছে, যেমন করে মায়েদের উলঙ্গ করে নিত্য করা হচ্ছে। নিশ্চই সভ্য মানুষ এগুলো সহ্য করতে পারেন না।
আরবান আলীর স্মরণে কমরেড নূর আহমদ বকুল বলেন, যারা মানুষের জন্য কাজ করে তাদের মৃত্যু হয় না। আরবান আলী ছিলেন সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের নেতা। একজন নির্লোভ, নিরহংকার মানুষ ছিলেন তিনি। দেশ, মানুষ ও সমাজের জন্য তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। তার অভাব কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি কমরেড জ্যোতি শংকর ঝন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জাকির হোসেন, পাবনা জেলা ন্যাপের সভাপতি রেজাউল করিম মনি, নাগরিক কমিটির রাজবাড়ী জেলার সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদাৎ হোসেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কমরেড এর ভাই আব্দুল মান্নান মান্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সুশান্ত রায়, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি স্বপন কুমার দাস প্রমুখ বক্তব্য দেন।
শোক সভা সঞ্চালনা করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড অরুণ কুমার সরকার। শোক সভাতে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা, উপজেলার কমরেডরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।