Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মিরসরাইয়ে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন ও আনোয়ারায় এফটিজেড স্থাপন করবে সরকার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২২ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৮

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ কথা জানান।

বেজার গভর্নিং বোর্ড সভায় জানানো হয়, মিরসরাইয়ে প্রায় ৮০ একর জমি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগে এই জমি একটি বিদেশি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও প্রকল্প বাতিল হওয়ায় তা নতুনভাবে পুনঃব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ফ্রি ট্রেড জোন হিসেবে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে এ জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রি ট্রেড জোনকে কার্যত ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালনা করা হবে, যেখানে কাস্টমস বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন ও পুনঃরফতানি করা যাবে।

আশিক চৌধুরী বলেন, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপন করা হবে। এই ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রাথমিকভাবে গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, হাইটেক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আশিক চৌধুরী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের টাইম টু মার্কেট সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল এনে দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। উদাহরণ হিসেবে আমেরিকান কটনের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।

দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনের মতো মডেল অনুসরণ করে এ ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলা হলে এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে একাধিক আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন হবে। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগির মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

সারাবাংলা/এসআর