Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুরগির বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, ৬ দফা দাবি বিপিএ’র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৩ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩২

ঢাকা: মুরগির বাজারে অস্থিরতা, বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

শ‌নিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টি‌তে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ অভিযোগ ক‌রে বাংলা‌দেশ‌ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

সংবাদ স‌ম্মেলনে তারা অভিযোগ ক‌রেন, গত কয়েক মাস ধরে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে মুরগির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না খামারিরা। এতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি খাতে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যেখানে একটি বাচ্চার দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক খামারি লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বি‌পিএ নেতা সুলতান হাসান বলেন, আমরা লোকশান কর‌তে কর‌তে ভিটে-মা‌টি সব হারিয়েছি। প‌রিবার নিয়ে চলতে পার‌ছি না। সাংবা‌দিকদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই আমাদের প্রণোদনা দিন। আমাদের পা‌শে দাড়ান।

বি‌পিএ সভাপ‌তি সুমন হাওলাদার বলেন, সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।‌ ডিম আমদা‌নি করা হচ্ছে, এতে ক্ষুদ্র খাম‌া‌রিরা ক্ষ‌তিগ্রস্থ হচ্ছে।

তি‌নি আরও বলেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনেক সরকা‌রি লোক জ‌রিত। আমরা সরকা‌রের সঙ্গে বস‌তে চাই। আমা‌দের দুঃখগু‌লো সরকারের কা‌ছে তু‌লে ধর‌তে চাই। আমরা আশা ক‌রি সরকার আমাদের দিকে সুনজর দিবে।

সংগঠনটির মতে, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কাছে বিপিএ ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে-

১. প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান।
২. সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৩. মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৪. খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন।
৫. ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সঠিক বাজার ব্যবস্থা চালু করা।
৬. প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটি বলেছে, এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে এবং গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সারাবাংলা/এসএ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর