Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আগামী বাজেটে ৭ দফা প্রস্তাব ডিবিএ’র

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫২ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩১

– সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বাজেটে কর সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ‘ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ডিবিএ)।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

চিঠিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত করনীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়বে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

ডিবিএ’র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়, ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে স্পন্সর-পরিচালকরা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরাও লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এতে কর কাঠামো সহজ হবে এবং দ্বৈত করের বোঝা কমবে বলে মনে করছে তারা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে কর বৈষম্য দূর করার ওপরও জোর দিয়েছে ডিবিএ। বর্তমানে কর রেয়াত সুবিধার জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা থাকায় খুচরা বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে কর রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীল তহবিল প্রবাহ নিশ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করহার থাকলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে ভিন্ন করহার প্রযোজ্য হওয়ায় বিনিয়োগে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ও ফান্ড ইউনিটের ক্ষেত্রে একই করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।

শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে কর বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসকে কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে ডিবিএ বলেছে, উৎস করকে মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করা হোক, যাতে প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর চাপ কমবে।

লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টে কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন বলে মনে করছে ডিবিএ।

পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন, টার্নওভার বা ব্যাংক ঋণ থাকা কোম্পানিগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট শর্তে নীতিগত প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডিবিএ। যেসব কোম্পানি টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা করেনি বা লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, তাদের অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিবিএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থা ফিরবে।

সারাবাংলা/একে/এসআর