Thursday 01 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শর্তসাপেক্ষে সাবেক মালিক-পরিচালকরা ব্যাংকে ফিরতে পারবে: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৪ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৯

বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের মুখপাত্র আরিফ হো‌সেন খান – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে আলোচিত ১৮ক ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের সাবেক মালিক ও পরিচালকদের (এস আলমরা) পুনরায় ফিরে আসার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবা‌বে বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের মুখপাত্র আরিফ হো‌সেন খান ব‌লেন, তারা সংশোধন হলে ব্যাংকে ফিরতে পারবে। তবে এই সুযোগ শর্তসাপেক্ষ এবং কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (২২ এ‌প্রিল) সাংবা‌দিক‌দের এসব কথা ব‌লেন মুখপাত্র।

তি‌নি ব‌লেন, যেসব ব্যক্তি ব্যাংকের অভিযুক্ত মালিকানা বা পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় মালিকানায় ফিরতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে শেয়ারের অন্তত ৭.৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ কর‌তে হ‌বে।

বিজ্ঞাপন

‌তি‌নি আরও ব‌লেন,পুনর্বহালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে একাধিক সংস্থার তথ্য যাচাই করবে। বিশেষ করে বিএফআইইউ’র (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) প্রতিবেদন অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলে, সেসব অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে হবে। অভিযোগমুক্ত হলে তবেই ইতিবাচক বিবেচনা করা হবে।

মুখপাত্র জানায়, এছাড়া সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) তথ্য পর্যালোচনায় যদি দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাহলে তা সমন্বয় বা বিধি অনুযায়ী পুনঃতফসিল (রিশিডিউলিং) করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই তারা পুনরায় পরিচালনায় আসার সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে ঋণ জালিয়াতি, বেনামে ঋণ গ্রহণ, অর্থ বিদেশে পাচার এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি হয়েছে। সেই অভিযোগগুলো থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে আবার ব্যাংকের সম্পদে ফিরে এলে, এতে রাষ্ট্রের বিশেষ কোনো লাভ না-ও হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের কর্মকর্তারা জানায়, এই আইনের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কেউ যদি সব নিয়ম মেনে, দায়-দায়িত্ব পরিশোধ করে এবং আইনগতভাবে পরিষ্কার হয়ে ফিরে আসতে চায়, তাহলে সে পথ খোলা রাখা হয়েছে।

মুখপাত্র আরও ব‌লেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য আগামী ১৮ মাসে দেশে ও বিদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিদেশে জনশক্তি রফতানিতে কিছুটা বাধা তৈরি হওয়ায়, এখন দেশেই কর্মসংস্থান বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে নতুন শিল্প স্থাপনের চেয়ে বন্ধ বা ধীরগতির কলকারখানাগুলো সচল করা বেশি জরুরি বলে মনে করছেন তি‌নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর পথ বন্ধ করা হলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ একটি শিল্পকারখানা শুধু মালিকের নয়, বরং রাষ্ট্রের সম্পদ।

তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শিল্প সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়মিত ঋণে রূপান্তর, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো সম্ভব হবে।

সব শর্ত পূরণ করে কেউ যদি পুনরায় ব্যাংকের পরিচালক বা বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন, তাহলে তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর