Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৭ মাসেও ইশতেহার বাস্তবায়ন হয়নি, জাকসু নিয়ে অসন্তোষ

জাবি করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৫ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩০

জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের সাত মাস পেরিয়ে গেছে। এক বছর মেয়াদি এই সংসদের অর্ধেকের বেশি সময় শেষ হলেও নির্বাচনি ইশতেহারের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকের কাছেই ফিকে হয়ে এসেছে। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদৌ কতটা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’। তাদের ইশতেহারে ছিল ‘৫ ইয়েস, ৫ নো’ এবং ৯ দফা কর্মসূচি।

বিজ্ঞাপন

‘৫ ইয়েস’-এর মধ্যে ছিল—ডাইনিংয়ে ভর্তুকি, অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমস্যার সমাধান, অটোমেশন, পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল সুবিধা এবং প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে ‘৫ নো’-তে ছিল সেশনজট, নারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা, মাদক ও চাঁদাবাজি, লাঞ্চের পরে আসেন এবং র‍্যাগিং-সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়।

এ ছাড়া ৯ দফায় অ্যাকাডেমিক সংস্কার, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্য, ক্রীড়া-সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকারসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘৫ ইয়েস’ ও ‘৫ নো’-এর কোনো প্রতিশ্রুতিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ৯ দফার মধ্যে কেবল বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা এবং কিছু রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত নির্মাণের অনুমোদন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি ছাড়া তেমন কোনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিচার, শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল, বৃত্তি বৃদ্ধি, শিক্ষক মূল্যায়ন, গবেষণা সহায়তা কিংবা অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও দৃশ্যমান কোনো বাস্তবায়ন নেই বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে আবাসিক হল-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও তেমন অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীদের দাবি, র‍্যাগিং ও গেস্টরুম কালচার আগেই বন্ধ হয়েছে। এতে জাকসুর বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। নতুন হলে ডাইনিং চালু হয়নি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। খাদ্য ও স্বাস্থ্য খাতে কিছু সীমিত অগ্রগতি থাকলেও বড় প্রতিশ্রুতিগুলো অপূর্ণই রয়ে গেছে। ক্যাফেটেরিয়ায় তিনবেলা খাবার চালু হলেও ডিজিটাল কুপন, পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল ব্যবস্থা, আধুনিক ডিসপেনসারি বাস্তবায়িত হয়নি।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ কিংবা নিয়মিত উৎসব আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে অটোমেশন, স্মার্ট আইডি কার্ড, এডুরোম বা লাইভ ট্র্যাকিং অ্যাপ চালুরও কোনো অগ্রগতি নেই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র‍্যাম্প, লিফট বা ব্রেইল সুবিধাও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান মনে করেন, ‘ইশতেহার অনেক সময় ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আর্থিক সমন্বয় জরুরি।’ অর্থায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় ইশতেহার বাস্তবায়ন কঠিন হলেও প্রশাসনিক সহযোগিতায় তা করা সম্ভব। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তবে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি কাজই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাস্তবায়ন করতে দেরি হচ্ছে। আমরা নীতি নির্ভরভাবে কাজ করছি। ইশতেহারের অধিকাংশ কাজ চলমান এবং টেকসইভাবে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে।’ ‘অনেক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।’

অন্যদিকে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘ইশতেহারের অধিকাংশ কাজ চলমান। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে এর ফল দৃশ্যমান হবে।’ বাজেট নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘জাকসুর কাজ মূলত প্রশাসনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়।’

তবে নিজের ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি—’লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ’—বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি এককভাবে সম্ভব নয়। সব সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচক রাজনীতির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর