Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অতীতে জ্বালানি খাত কয়েকজন ব্যক্তি ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল: তিতুমীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ২০:৫১ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ২২:৪৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অতীতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, পতিত সরকারের সময় জ্বালানি খাতকে অলিগার্কদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলা হয়, যার খেসারত এখন জনগণকে ভর্তুকির মাধ্যমে দিতে হচ্ছে।

রোববার(১৭ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত “আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম।

বিজ্ঞাপন

তিতুমীর বলেন, অতীতে জ্বালানি খাত কয়েকজন ব্যক্তি ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। শিল্পমালিক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত সবাই তাদের কাছে জিম্মি অবস্থায় ছিল। তার ভাষায়, “কয়েকটি কোম্পানি পুরো জ্বালানি খাতকে বেঁধে ফেলেছিল। এই বিষধর চক্র বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং জনগণের করের টাকায় বিপুল ভর্তুকি দিতে বাধ্য করেছে।”
তিনি জানান, আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে সরকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে জ্বালানি খাতে নতুন মিশ্রণ তৈরি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো;
বিনিয়োগ, শিল্প ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য কাঠামো পুনর্নির্ধারণ;
নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি;
গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা এবং
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ন্যূনতম মজুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) জীবাশ্ম জ্বালানির উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ শতাংশের কম বরাদ্দ রাখা হয়। এতে স্পষ্ট হয় যে অতীত সরকার এ খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর বাজেট নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবায়নে তার প্রতিফলন খুব কম দেখা যায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের ৩২টি দপ্তরে যেতে হয়, যা বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষক খালিদ মাহমুদ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে এখনো তুলনামূলক বেশি শুল্ক ও কর রয়েছে। একই সঙ্গে এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ পুরো জ্বালানি খাতের মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তিনি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর