Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গরুর হাটে ক্রেতা কম, চিন্তিত বেপারীরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ মে ২০২৬ ১৬:৩৪ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৭:৩৫

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঈদুল আজহার আগের দিন রাজধানীর গরুর হাটগুলোতে ক্রেতা কম এবং টানা বৃষ্টির কারণে গরুর দামে ধস নেমেছে বলে দাবি ব্যাপারি ও খামারিদের। একদিনের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমায় ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও লোকসানের চিন্তায় পড়েছেন বেপারীরা।

বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাটের সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাটে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। এরপরও হাটে গরু নামানোর জন্য শত শত ট্রাক ও ট্রলার দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায়। এর প্রভাব পড়েছে দামে, অনেকটাই ‘পড়ে গেছে’ গরুর দাম।

হাটের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ব্যাপারীরা বলছেন, আজ রাতে ক্রেতা বাড়বে বলে মনে হয় না। এবার হাটে থাকা সব গরু কোনোভাবেই বিক্রি হবে না। লোকসান দিয়ে অনেককেই অবিক্রীত গরু নিয়ে ফিরে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পাবনার সাথিয়া থেকে আসা ব্যাপারী রবিউল ইসলাম বলেন, সাত মাস আগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে কোরবানির জন্য তৈরি করেছি। ওই গরু এ বাজারে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বলছে। আগে দেখেছি বড় গরুতে লোকসান হয়, এবার মাঝারি গরুও বিক্রি হচ্ছে না।

গাবতলী গরুর হাটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে ৯টা গরু এনেছেন মিনহাজ ব্যাপারি। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর থেকে আজ পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তিনি জানান, তার গরুগুলো ৭ থেকে ৮ মন ওজনের, কিন্তু ক্রেতা দুই লাখের নিচে দাম বলছে।

আরেক বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, গতকাল (২৭ মে) বাজার ভালো ছিল। একটি গরু এক লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তখন বাকিগুলোরও ভালো দাম উঠছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ক্রেতা কমে যাওয়ায় দাম পড়ে যায়। এখন বৃষ্টিতে হাটে তো ক্রেতাই নেই।

কমলাপুর গরুর হাটে জামালপুর থেকে আগত বেপারী সাহাবউদ্দিন বলেন, ঢাকার এই হাটে আর আসবো না। গ্রাম থেকে যে দামে গরু কিনে এনেছি, এখানে তার চেয়ে প্রতিটা গরুর দাম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম বলছে। এখন বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

এদিকে রাজধানীর উত্তরায় গরুর হাটের চিত্রও একই রকম। মঙ্গলবার যে পরিমাণ ক্রেতার সমাগম ছিল, বুধবার দুপুর পর্যন্ত সেরকম ক্রেতার উপস্থিতি নেই। ফলে চিন্তায় পড়েছেন গরুর বেপারীরা। তারা বলছেন বিকাল নাগাদ যদি বাজার এরকম থাকে তাহলে লোকসানেই গরু বিক্রি করতে হবে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসআর