Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিদেশ থেকে ফ্রেইট চার্জ আনতে কমলো জটিলতা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জুন ২০২৬ ১৯:৪৭ | আপডেট: ৮ জুন ২০২৬ ২০:৫৫

ঢাকা: লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশে থাকা সহযোগী ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমদানিকারক, বায়িং হাউস কিংবা অন্য কোনো বিদেশি আয়োজক সংস্থার কাছ থেকেও সরাসরি রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারবেন দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এর আগে ৭ মে জারি করা নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা বিদেশে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানিকারকদের কাছ থেকে ফ্রেইট চার্জ আদায় করে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে পারতেন। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থ প্রেরণের উৎসের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।

বিজ্ঞাপন

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশে সেবা প্রদান বা পরিবহন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিপরীতে অর্জিত অর্থ এখন কেবল সহযোগী ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, বরং— বিদেশি আমদানিকারক,বায়িং হাউস, বিদেশি ট্রেডিং বা সোর্সিং প্রতিষ্ঠান, অথবা অন্য কোনো বৈধ বিদেশি আয়োজক সংস্থার কাছ থেকেও।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস সেবার সঙ্গে যুক্ত দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ফ্রেইট চার্জ বা লজিস্টিকস সেবার বিল সরাসরি আমদানিকারক বা বায়িং হাউস পরিশোধ করে থাকে। আগের নিয়মে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থ প্রাপ্তির পথ সহজ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনা দ্রুততর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে এবং রপ্তানি-আমদানি সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা ও শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের বিদ্যমান বিধানগুলো আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে এই নির্দেশনার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যের সহায়ক সেবা খাত হিসেবে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্পের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। অর্থ গ্রহণের উৎস সম্প্রসারণের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহ উন্নত হবে, আন্তর্জাতিক লেনদেন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি অংশ আরও সহজে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বৈধ প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর