Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা, বাতিল চান আইনজীবী ড.শরীফ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জুলাই ২০২৬ ১৫:৫২ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৬

আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এর ফলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা উচিত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানিতে তিনি এমন দাবি করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের অনুমতি দেয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিলটি দায়ের করেন। এতে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা নষ্ট হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। তাই এ ব্যবস্থা বিলুপ্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে গণভোটের বিধান বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

তবে রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর সব বিধান বাতিল করা হচ্ছে না। যেসব বিষয় বহাল রাখা হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, নারীদের জন্য সংরক্ষিত সংসদীয় আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় আরও বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো