ঢাকা: বিএনপি সরকারের সম্ভাব্য নতুন সাড়ে ৪ বিলিয়ন (৪.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ছিল আইএমএফ প্রতিনিধিদলের পাঁচ দিনের সফরের সমাপনী বৈঠক।
বৈঠকে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থা, রাজস্ব নীতি, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে তাদের সদরদপ্তরে ফিরে বৈঠকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ, অর্থায়নের প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি বিবেচনা করে নতুন কোনো ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এগোনো সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফ ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছালে পরবর্তী ধাপে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল আবার বাংলাদেশ সফরে আসবে। সে সময় সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ, শর্ত, সংস্কার কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও দর-কষাকষি হবে। ওই আলোচনা শেষে নতুন ঋণ কর্মসূচি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি বজায় রাখা এবং বাজেট সহায়তার জন্য বাংলাদেশ নতুন আইএমএফ কর্মসূচিতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; আইএমএফের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ থেকে তিন বছরের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে বৈঠক গত রোববার ঢাকায় আসে আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কারের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে আইএমএফ মিশন।
বৃহস্পতিবার সফরের শেষ দিনে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে এবারের সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়নি। সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করছে সরকারের আর্থিক নীতি, ডলারের বিনিময় হার, মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতির মত বিষয়গুলো। ভবিষ্যতে কোনো ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়া যায় কি না তা নিয়েও ভাবছে সরকার। আলোচনা হয়েছে ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়েও।