ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের অংশ হিসেবে সেখানে থাকা মালামালের তালিকা তৈরির কাজ (ইনভেন্টরি) দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২০ জুলাই) আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রোববারের মত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এরপর তারা মালামালের ইনভেন্টরি শুরু করেন। এর আগে রোববার দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৩০০টিরও বেশি কোট, ৫৩২টি টাই, ৮টি ওয়াচ বক্স, ৩টি মুক্তার সেট, ৪টি ঝাড়বাতি, বিছানা, সোফা এবং ১০০টিরও বেশি কামিজ তালিকাভুক্ত করা হয়।
গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট দুটির মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। গত বছরের ১৮ নভেম্বর জাবেদের এই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
আদালতের সেই আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
পরবর্তীতে দুদকের আরেকটি আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশও দেন আদালত। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক এই ভূমিমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।