ঢাকা: দেশে একটি সুস্থ পুঁজিবাজার গঠন, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাজারের অন্যান্য অংশীজন।
সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার লক্ষ্যে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স এবং বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২০ জুলাই) বিএসইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিগত এক বছরের (জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬) বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিগত এক বছরে (জুলাই ২০২৫–জুন ২০২৬) শুধু বিএসইসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে চার হাজার ৬৬০ জন বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ১ হাজার ৮৯৬ জন এবং পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের প্রশিক্ষণে ১ হাজার ১৯৪ জন অংশ নেন।
ডিএসইর ট্রেকহোল্ডারদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণে ১০৬ জন এবং পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিশেষ কর্মশালায় ৫২ জন অংশ নেন। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সহায়তায় নজরদারি ও আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক সেমিনারে ৬১ জন, এসএমই উদ্যোক্তাদের মূলধন বৃদ্ধিবিষয়ক প্রশিক্ষণে ৩৫ জন এবং নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত আর্থিক বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মশালায় ২৬ জন অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেন ১ হাজার ২৯০ জন।
পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে শুধু কমিশনই নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বিআইসিএম, বিএএসএম, আইসিবিসহ বিভিন্ন ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংক সম্মিলিতভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, একটি গতিশীল ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ—উভয় স্তরের বিনিয়োগকারীদের দক্ষতার এই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।