ঢাকা: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল এবং সব ধরনের আমানত মুনাফাসহ ফেরতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ শেষে আমানতকারীরা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকার হেয়ারকাট ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও বাতিল করে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়।
আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস, এমটিডিআরসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের অর্থ তুলতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষার ব্যয় এবং দৈনন্দিন সংসার পরিচালনায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি হেয়ারকাট হিসেবে সংরক্ষিত অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আমানত ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন শুরু করবেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন প্রায় ৭৬ লাখ গ্রাহক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল কয়েক কোটি মানুষের স্বার্থ এ সমস্যার সঙ্গে জড়িত। তাই সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।