ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ‘গাইডলাইনস অন ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস)’ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশনার আওতায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্গঠন ও নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালে জারি করা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স–সংক্রান্ত দুটি সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) এ–সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (Risk-Based Supervision) কার্যকর করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স ইউনিটের দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, সব ব্যাংককে ‘থ্রি লাইনস অব ডিফেন্স’ মডেল অনুসরণ করতে হবে। প্রথম স্তরে থাকবে ব্যবসায়িক ইউনিট, যারা ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করবে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট, যারা তদারকি করবে। আর তৃতীয় স্তরে থাকবে স্বাধীন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (ইন্টারনাল অডিট), যা পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে।
নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর জন্য শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও মনিটরিং কাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন-সাইট অডিটের পাশাপাশি অফ-সাইট সার্ভেইল্যান্স, ভার্চুয়াল অডিট, তথ্যপ্রযুক্তি (আইএস) অডিট, ফরেনসিক অডিট, সমসাময়িক (কনকারেন্ট) অডিট এবং হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থাকেও নতুন কাঠামোর অংশ করা হয়েছে।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধানদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তাদের নিয়োগ, মূল্যায়ন ও অপসারণে পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির ভূমিকা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন আইসিএমএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।