ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চলতি মাসের যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘শারীরিক অসুস্থতা’ উল্লেখ করা হতে পারে । ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আর দায়িত্বে বহাল থাকছেন না- তা অনেকটাই নিশ্চিত। তিনি নিজেও শারিরিক জঠিলতার কারণে রাষ্ট্রপাত পদে আর থাকতে চাচ্ছিলেন না। সরকার রাষ্ট্রপতির এই ইচ্ছা অনুযায়ী ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র সারাবাংলা-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ( ২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে, সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
অন্যদিকে বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তার অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে করে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ফলে কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এতোদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও হঠাৎ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি‘র নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানেরে ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিলে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।