গত পাঁচ বছরে ইউপিআই (UPI) লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং বর্তমানে ১২টি দেশ ভারতের এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশগুলো হচ্ছে- ভুটান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মরিশাস, শ্রীলংকা, নেপাল, কাতার, গ্রীস ও ক্যাম্বোডিয়া। এর মধ্যে নেপাল ও সিঙ্গাপুর দুটি করে পৃথক পেমেন্ট ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।
ভারতে ইউপিআই লেনদেন: গত পাঁচ বছরে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-এর মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর তত্ত্বাবধানে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) কর্তৃক ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল চালু হওয়া এই ব্যবস্থাটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামোর মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। এটি ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’-এর অধীনে অনুমোদিত। সূত্র: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বলা হয়েছে, সংসদের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে লোকসভার সাংসদ ড. মান্না লাল রাওয়াত সরকারের কাছে দেশে ইউপিআই (UPI) ব্যবহারকারী ও ইউপিআই লেনদেনের বর্তমান সংখ্যা এবং ব্যবহারকারীদের রাজ্যভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। সংসদের মাধ্যমে সরকারের কাছে তিনি জানতে চান, ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে ইউপিআই ব্যবহৃত হচ্ছে কি না; যদি হয়ে থাকে, তবে সেই দেশগুলোর নাম এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কেও।
সংসদ সদস্য আরও জানতে চান, ইউপিআই-ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যে সরকার নতুন কোনো প্রযুক্তিগত বা নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে কি না ?
বুধবার (২২ জুলাই) এই প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, এনপিসিআই (NPCI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৫৫.৪৯ কোটি ব্যবহারকারী ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউপিআই-ভিত্তিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সরকার, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং এনপিসিআই সময়ে সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—প্রতারণামূলক লেনদেন রোধে ঝুঁকি-ভিত্তিক লেনদেনের সীমা নির্ধারণ, অননুমোদিতভাবে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও এসএমএস-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ (authentication) প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইউপিআই (UPI) অ্যাপ্লিকেশনের জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এছাড়া ইউপিআই ইকোসিস্টেমের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে এনপিসিআই (NPCI) ‘কম্প্রিহেনসিভ ইউপিআই ইনফরমেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক (CUISF) ২০২৫’ এবং ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ জারি করেছে, যার মাধ্যমে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন।
গত ৫ বছরে ইউপিআই লেনদেনে ব্যাপক বৃদ্ধি
গত পাঁচটি অর্থবছরে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউপিআই-এর মাধ্যমে ৮৪.১৬ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৫৯৫.৬১ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। এই লেনদেনের সংখ্যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে ৮ হাজার ৩৭১.৪৪ কোটিতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৩ হাজার ১১২.৯৫ কোটিতে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৫৮৬.৬০ কোটিতে উন্নীত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউপিআই তার সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স রেকর্ড করেছে; এ সময় মোট ৩১৪.২৩ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ২৪,১৬১.৬৯ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (NIPL) হলো ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা। বিদেশি সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইউপিআই (UPI) ও রুপে (RuPay) কার্ড নেটওয়ার্কের মতো এনপিসিআই-এর পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এটির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
লিখিত বিবৃতিতে চৌধুরী বলেন, এটির মাধ্যমে ভারতীয় পর্যটক ও প্রবাসীরা সহজেই আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট বা লেনদেন করতে পারছেন; পাশাপাশি সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোকে তাদের নিজস্ব পেমেন্ট পরিকাঠামো—যেমন ইউপিআই-এর মতো রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থা বা রুপে-র মতো অভ্যন্তরীণ কার্ড স্কিম—গড়ে তুলতে সহায়তা করা হচ্ছে।