ঢাকা: অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমকে পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বেশ কদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে। পদত্যাগপত্রও লেখা হয়। তবে, স্পিকার দেশে না থাকায় তিনি তা জমা দিতে পারেননি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদশূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ফলে কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এতোদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি’র নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে সই যুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানেরে ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিলে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।