ঢাকা: চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান-কে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান-এর কাছে করা আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রুলে দুর্ঘটনাকবলিত সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো-বি-১২-২৮৮১) সব রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে না কেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা নিশ্চিত করা, পরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ ও কিউআর কোড প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাসের ভেতরে ও বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং সিঙ্গেল চেসিসে ডাবল ডেকার বাস রূপান্তর রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা সম্পর্কেও রুলে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে আহত আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। রিটে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘আরামের আড়ালে মারণ ফাঁদ’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পাশের জমিতে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। বাসের ভেতরে অন্ধকার নেমে এলে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। পাশাপাশি তিনি শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতায় ভোগেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘ সময় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বাধ্য হন। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।