Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়ে ঢাবিতে কর্মশালা

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৯

ঢাবি: বাংলাদেশে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ‘Comprehensive Research and Analysis to Support Accelerating Digital Legal Aid Services in Bangladesh Project’ শীর্ষক গবেষণার ওপর জাতীয় যাচাইকরণ ও ফলাফল প্রচার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ইউএনডিপি’র ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স পোর্টফোলিওর রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট ড. তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং গবেষণা দলের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য রাখেন দলনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।

বক্তারা বাংলাদেশের আইনি সহায়তা সেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনগণের প্রবেশাধিকার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবাকে সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী পর্বের পর গবেষণা দল গবেষণার পদ্ধতি, মাঠপর্যায়ের তথ্য, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, আইসিটি চাহিদা, আইনি সহায়তা গ্রহণকারীদের ধারণা, অন্তর্ভুক্তির প্রতিবন্ধকতা এবং তুলনামূলক আইনি বিশ্লেষণের ফলাফল উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সাইফুল হক সহ অন্যরা।

সে গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে বলা হয়, গবেষণাটি বরগুনা, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ ও জয়পুরহাট-এই আটটি পাইলট জেলার তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এতে আইনি সহায়তা গ্রহণকারী, সাবেক ও সম্ভাব্য সেবাগ্রহীতা, জেলা আইনি সহায়তা কর্মকর্তা, প্যানেল আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য অংশীজনের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় ডিজিটাল আইনি সহায়তা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তরুণ, অতিদরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়।

ফলাফল নিয়েসহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক বলেন, ‘কেবল একটি স্মার্টফোন অ্যাপ বা অনলাইন পোর্টাল চালু করলেই সবার জন্য ডিজিটাল আইনি সহায়তা নিশ্চিত হবে না। অনেক সেবাগ্রহীতার স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা না থাকায় ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় সরাসরি ডিজিটাল সেবার পাশাপাশি সহায়তাপ্রাপ্ত বা অ্যাসিস্টেড-অ্যাক্সেস মডেল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে জেলা আইনগত সহায়তা কার্যালয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, অনুমোদিত বেসরকারি সংস্থা, প্রশিক্ষিত সহায়ক ব্যক্তি এবং বিশ্বস্ত স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সেবা প্রদানের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসএমএসভিত্তিক আবেদন ও মামলা অনুসরণ, কম ইন্টারনেট সংযোগেও ব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অফলাইন তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।’

গবেষণায় নারী ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

এছাড়া, পারিবারিক সদস্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা বা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা মোবাইল ফোনে সংবেদনশীল তথ্য বা মামলা-সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হলে সেবাগ্রহীতার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।

এক্ষেত্রে সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে গোপনীয় এসএমএস নোটিফিকেশন, নিরাপদ পরিচয় যাচাইকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মামলা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা এবং দ্রুত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে বের হয়ে যাওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তী প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারজানা আক্তার এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদা ইয়াসমিন। মাসুদা ইয়াসমিন তাঁর বক্তব্যে মাঠপর্যায়ে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদান এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল আইনি সহায়তা সেবার ব্যবহারযোগ্যতা, তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার, ডিজিটাল বৈষম্য, অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি, আইনজীবীদের ডিজিটাল সিস্টেমে যুক্ত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেওয়া হয়। আলোচনায় বলা হয়, ডিজিটাল আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করতে হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকের আস্থা, ভাষাগত বৈচিত্র্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব নকশা, নারীর নিরাপত্তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী অংশে ইউএনডিপি’র ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স পোর্টফোলিওর অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে আইনি সহায়তা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনগণের কাছে সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

কর্মশালার প্রধান অতিথি আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা তার বক্তব্যে গবেষণার ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ মতামত ভবিষ্যৎ ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।

লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষের জন্য সহজ, নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, আইনজীবী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণার ফলাফল ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং সমন্বিত ডিজিটাল আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর