ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। বর্তমানে মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ৯ জন গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, লেখক ও গবেষক শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- তৎকালীন সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। অভিযোগে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, বাহাউদ্দিন নাছিম, লতিফ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিভিন্ন বাহিনীর আরও অনেক কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে প্রসিকিউশন জানায়, তদন্তে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ শেষে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এ ঘটনার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করে। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিলে তা আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।