ঢাকা: যৌতুক মামলায় কারাগারে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন, যিনি প্রিন্স মামুন নামে পরিচিত, এবার আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক-এর আদালতে আবেদনটি দাখিল করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসায় অবস্থানকালে প্রিন্স মামুন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনার একটি শাড়ি বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং ঘটনার জন্য মোহনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে বক্তব্য দেন।
ফেসবুক লাইভটি দেখার পর মোহনা, তার মা, স্বজন এবং প্রিন্স মামুনের বাবা-মা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে একই দিনে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে থাকা অবস্থাতেই আত্মহত্যার চেষ্টার মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রয় জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা ঘটনার ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে। তবে শুনানির দিন আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে, যাতে এই মামলায় প্রিন্স মামুনকে গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) না দেখানো হয়।