Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্তার বদলি, নানা গুঞ্জন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:০১

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকে একসঙ্গে ১৫ কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিস আদেশে এটিকে প্রশাসনিক প্রয়োজন ও নিয়মিত পুনর্বিন্যাস হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সাম্প্রতিক এই পদায়নের পেছনে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের বিশেষ বিবেচনাও কাজ করেছে। তবে এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ২২ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে ১৫ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রশাসনিক প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্য বিভাগ বা কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অফিস আদেশ অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের মো. জবদুল ইসলামকে এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের চৌধুরী লিয়াকত আলীকে কৃষিঋণ বিভাগ-১-এ এবং কৃষিঋণ বিভাগ-১-এর দেবাশীষ সরকারকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এ কে এম গোলাম মাহমুদকে রাজশাহী অফিসে, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ-১-এর মো. মঈনুল ইসলামকে খুলনা অফিসে এবং এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের নওশাদ মোস্তফাকে সিলেট অফিসে বদলি করা হয়েছে।

বগুড়া অফিসের শবরী ইসলামকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম), বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির মোহাম্মদ আমিনুর রহমানকে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ-১-এ এবং বিআইবিএমের মো. আনোয়ার হোসেনকে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া টেকনোলজি রিস্ক অ্যান্ড ডিজিটাল ব্যাংকিং সুপারভিশন বিভাগের মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বিএফআইইউতে, বিআইবিএমের ড. সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগে এবং গৃহায়ণ তহবিলের মো. সদরুল মুক্তাদিরকে টেকনোলজি রিস্ক অ্যান্ড ডিজিটাল ব্যাংকিং সুপারভিশন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
স্পেশালাইজড ব্যাংক রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগের একেএম নূরুন্নবীকে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগে, হিউম্যান রিসোর্সেস বিভাগ-১-এর খন্দকার সিরাজুল ইসলামকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিভাগে এবং একই বিভাগের আবেদা রহিমকে গৃহায়ণ তহবিলে বদলি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক এই রদবদল নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। তার মতে, যাদের বর্তমান প্রশাসনের আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকজন কর্মকর্তাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ কিংবা মাঠপর্যায়ের কার্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরের প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, “এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ ভিন্নমতের(আওয়ামী লীগ,জামায়াত) হলেই তাঁকে বদলি করার মতো কোনো ব্যাংক আইন নেই। অতীতেও এমন নজির ছিল না, এখনও নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভাগ পরিবর্তন বা রোটেশন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, একক বিভাগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কারণে সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত কমে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ে। তবে একসঙ্গে ১৫ কর্মকর্তার পদায়ন হওয়ায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে এই রদবদল নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং আরও কিছু বিভাগে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর