Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টাঙ্গাইলে খাল পুনঃখনন শেষে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:১৫

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের বাসাইলে সুন্দরী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বাসাইল উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হাবলা উত্তরপাড়া থেকে আরোহা জীবনেশ্বর ভায়া ছয়শত বিল পর্যন্ত সুন্দরী বাইকখাল ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭০৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে ১দশমিক ৬ কিলোমিটার কাজ শেষ করার পরও মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরবর্তীতে সেই অর্থ নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। খননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণে খালের পাড়ে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পটির ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অব্যয়িত ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পটির ১.৬ কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অব্যয়িত ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সুন্দরী খাল পুনঃখননের ফলে খালের নাব্য ও সেচ সুবিধা বাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বছরে তিন ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সুন্দরী বাইক খালের পাশে ১০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও।

স্থানীয় কৃষক আবুল মিয়া বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে পানি আসলে পানিটা বের হতে পারতো না। খাল খনন করা হয়েছে বিধায় এখন অনায়াসে পানি চলে যাবে। এই খাল খননের জন্য আমাদের অনেক উপকার হলো। আমরা এখন সঠিক সময়ে সরিষা আবাদ করতে পারবো। আমাদের কৃষকদের মাঝে বছরে তিন ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বর্তমান করছে। এই খাল খননের ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা তিন ফসল আবাদ করতে পারবে। আগে বন্যায় পানি হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। খালখনের ফলে এখন আর জলাবদ্ধতা তৈরি হবে না। এখন কৃষক সঠিক সময়ে ফসল আবাদ করতে পারবে। বাসাইলে প্রকল্পের কাজ আংশিক শেষে টাকা ফেরত দেওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর