Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাই ব্যর্থ হলে ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হতো বাংলাদেশে: মঞ্জু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২১:৪৯

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা পরিবারের ‘শেখতন্ত্র’ বা ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করা হতো এবং বহু সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে সাংবাদিকদের গুম ও নির্যাতন করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৩ সালের আন্দোলনের সময় যেভাবে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, দৈনিক আমার দেশ ও একুশে টেলিভিশন বন্ধ করা হয়েছিল, জাতি তা ভুলে যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, সে বিষয়ে জনগণ এখনো স্পষ্ট জবাব পায়নি। আগে সংবাদকর্মীরা দুটি ব্লকে বিভক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা বিএনপি, জামায়াত ও পলাতক-গুপ্ত আওয়ামী ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংসদে কেবল জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না, বরং নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় দলীয় নিয়োগ এবং ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরকারি দলের সরে আসার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সংঘটিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মোবাইল জার্নালিস্ট এবং আলোকচিত্রীদের ধারণ করা নানা ছবি ও ভিডিও এই আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, করপোরেট মিডিয়া ফ্যাসিবাদের হয়ে সংবাদ সেন্সর করলেও সাধারণ মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভূমিকা ইতিহাসে বিচার প্রক্রিয়ার বড় প্রমাণ হিসেবে থাকবে। তবে দেশজুড়ে আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট পার হলেও রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পারেনি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, মোবাইল জার্নালিজমের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবি প্রথম তাদের দলই তোলে। সব গণমাধ্যমকর্মীর অধিকার, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের বড় দাবি। জাতীয় সংকটে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদেরও এখন নিরপেক্ষ আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।

দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, আন্দোলনে তথাকথিত অনেক সিনিয়র সাংবাদিক অফিসে বসে তথ্য গোপন করলেও মাঠপর্যায়ের ফটোসাংবাদিক ও মোবাইল সাংবাদিকদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর