Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর বর্ণনা / চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ স্বজন, হাসপাতালে নিয়েও মেলেনি চিকিৎসা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৭ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ২২:২৬

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী এনআরবি মামুন। তিনি বলেন, নিজের চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বজন নামে এক তরুণ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী মামুন পেশায় ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত।

সাক্ষ্যে মামুন বলেন, ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে ১২ জুলাই থেকে তিনি অংশ নেন। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সশস্ত্র হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তার পাশে থাকা আদিল ও ইয়াসিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অবস্থায় সহযোদ্ধারা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। একদিন বিশ্রামের পর ২১ জুলাই তিনি আবার আন্দোলনে যোগ দেন।

মামুন জানান, ২১ জুলাই সকালে সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাং রোডের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মা হাসপাতালের সামনে আবারও হামলার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তার দাবি, শামীম ওসমান, শাহ নিজাম, ফাইজুল ইসলাম, কমিশনার রুহুলসহ প্রায় ১৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালান। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় তিনি ডিএনডি খালে পড়ে গিয়ে আহত হন এবং তার একটি দাঁত ভেঙে যায়।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে চাষাঢ়া মোড়ে আন্দোলন চলাকালে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, শাহ নিজাম, ফাইজুল ইসলাম, টিপু সুলতান, রিয়াদ, শুভ, শুভ্র, রাজু, ডিস বাবু, আনোয়ার, ভিকি, রুহুল কমিশনার, টিটুসহ ১০০ থেকে ১৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ধাওয়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা ল্যাবএইড হাসপাতালসংলগ্ন গলিতে আশ্রয় নিলে তার সামনেই অয়ন ওসমানের গুলিতে স্বজন নামে এক তরুণ আহত হন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে পানি পান করান এবং রিকশাযোগে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান।

মামুনের অভিযোগ, আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা না দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বজনকে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৬ আগস্ট বিজয় উদযাপনের সময় তিনি স্বজনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

সাক্ষ্যে স্বজনসহ নিহতদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন মামুন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল তাকে জেরা করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এ সময় প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্র।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর