ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা এক হত্যা-চেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ-কে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন-এর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
শুনানিতে কলিমউল্লাহ’র পক্ষে আইনজীবী আব্দুল রশীদ গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আবেদন মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ কলিমউল্লাহ-কে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আদালত ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে কলিমউল্লাহ’র সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে। তিনি অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় এ মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখা প্রয়োজন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহ-কে গ্রেফতার করে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সেদিনই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির। গত ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্র-জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এ সময় একটি গুলি সাব্বিরের বাম হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা-চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।