ঢাকা: এক্সিম ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও অপারেশনাল দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক মো. শওকাতুল আলম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান শিকদার-এর কাছে এ দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
ব্যাংক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। একীভূত হওয়ার আগে এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসকেরা এতদিন ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বও পালন করছিলেন।
গত জুনে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজি শায়রুল হাসানকে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. আবেদুর রহমান শিকদারকে নিয়োগ দেয়। এরপর ধাপে ধাপে নতুন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এক্সিম ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও অপারেশনাল দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। এক্সিম ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের পর সেখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হবে। একইভাবে পর্যায়ক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়-সম্পদও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং প্রশাসকদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যে ধরনের অনিশ্চয়তা বা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপে তা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। নতুন ব্যাংকের কার্যক্রমকে স্থিতিশীল ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আমানতকারীর হজ পালনের ক্ষেত্রে যে কোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন করে শিগগিরই নতুন স্কিম ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে আমানতকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।