ঢাকা: গত ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী-কে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লতিফ সিদ্দিকী-কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকী-কে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
এরও আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করা হয়। লতিফ সিদ্দিকীও ওই পলাতক আসামিদের একজন ছিলেন।
মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে ওইদিন আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ভণ্ডুল করতে এবং সমাবেশস্থল থেকে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার দাবি, পরবর্তীতে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে নিরস্ত্র সমাবেশকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার আগে আওয়ামী লীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী অভিযান পরিচালিত হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ঘটনায় ৬১ জন নিহত হন এবং পরিকল্পনা, উসকানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগে লতিফ সিদ্দিকী-কে আসামি করা হয়েছে।
আদালতে নিজের ফাঁসি দাবি
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় সইয়ের অনুমতি এবং হাজতখানায় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
এ সময় কাঠগড়া থেকে উঠে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান লতিফ সিদ্দিকী। বিচারকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। পরে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আদালত যেন তাকে ফাঁসি দিয়ে দেন, কারণ তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছেন। আদালত তার কথা শোনেন নি- বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়। পরে তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
কাদের সিদ্দিকীর প্রতিক্রিয়া
লতিফ সিদ্দিকীর বড় ভাই কাদের সিদ্দিকী শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার ভাইয়ের প্রতি করা অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে আদালতে এসেছেন। তার দাবি, আদালতে অভিযুক্তের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার থাকলেও লতিফ সিদ্দিকী সেই সুযোগ পাননি।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার ভাই পরিকল্পনাকারীদের মূল পর্যায়ে ছিলেন না। তিনি তখন পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও কিছু বিষয়ে বিতর্কিত অবস্থানে ছিলেন বলে মন্তব্য করেন।
হাতকড়া পরানোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাদের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার হাতকড়া পরতে হয়েছে। তাই এটিকে তিনি অস্বাভাবিক কিছু মনে করেন না।
সারাবাংলা/টিএম/এসআর