ঢাকা: ঢাকার কেরানীগঞ্জে সন্ধান মিলেছে ইয়াবা তৈরির কারখানা। এমনকি, এই ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে ঢাকাতেই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা তৈরির কারখানা ছড়িয়ে আছে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে ইয়াবা উৎপাদনের কাঁচামাল মায়ানমার থেকে আনা হয় কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকাতেই ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে। এবারই প্রথম দেশে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেল। কেরানীগঞ্জে উৎপাদিত এই ইয়াবা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো।’
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ ৪ জন সক্রিয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। এ সময় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের নিকট ঠিক ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন ধরণের পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১টি ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন- মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), আলী আরমান (৩৬), শাহজাহান (৪০) ও সোনিয়া (৩০)। গ্রেফতারকৃত আলমগীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর এবং মোহাম্মদপুর থানায় একটি করে মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেফতার ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেরাই ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে ইয়াবা উৎপাদন করে ঢাকা’সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মাদক ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির উপকরণ ও য়ন্ত্রপাতিসহ গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ইয়াবা উৎপাদনের বিষয়ে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেফতাররা জানিয়েছে প্রায় ২ বছর ধরে তারা কেরানীগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করে আসছে। তবে ইয়াবা তৈরির এমন কারখানা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও রয়েছে বলে ধারণা র্যাবের এই কর্মকর্তার।