Friday 31 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নেত্রকোনায় বন্ধ গ্যাস সরবরাহ, জনদুর্ভোগ চরমে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৩

নেত্রকোনা: গত দশ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় নেত্রকোনায় জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। জেলার একমাত্র গ্যাস বিক্রির কেন্দ্র বন্ধ থাকায় বাসা-বাড়ির রান্নাবান্না, সিএনজিচালিত পরিবহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলার তিতাস গ্যাসের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি গ্ৰাহকের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

বন্ধ হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার পারলায় অবস্থিত জেলার একমাত্র একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন। এতে করে গ্যাস সংকটে সিএনজি চালিত পরিবহন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাতেগোনা যে কয়টি পরিবহন চলছে, তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। আধুনিক সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও পুলিশ লাইন্সের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পর্যায়ে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এ এ সমস্যা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সংকট নিরসনে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন। সমস্যা সমাধান হলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

জেলা তিতাস গ্যাস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৫ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন। উপরন্তু একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন,২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। জাতীয়ভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করতে গিয়ে সরবরাহ পাঁচ দিন ধরে জেলায় গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। যদিও এ হিসাব ১০ দিনের বেশি হবে।

বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহিনীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও। এতে করে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রান্না করা খাবারের দাম ও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

এ. আর. খান পাঠান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার বোরহান কবির বলেন, ‘এ সমস্যা একদিনে হয়নি। গ্যাসের সরবরাহ আরও আগে থেকেই কমে গেছে। তবে এক মাস ধরে কম সরবরাহ থাকলেও গত সাত থেকে আট দিন ধরে ইনলেট প্রেসার সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় এসে গেছে। সিএনজি চালিত যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্টেশনের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অটোরিকশা, অ্যাম্বুলেন্সসহ সিএনজিচালিত যানবাহন চালক, শ্রমিক ও যাত্রীরা সংকটে পড়েছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা জানান, এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় কেউ কেউ ময়মনসিংহে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তারা।

এ সম্পর্কে নেত্রকোনা জেলা তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, গ্যাসের সমস্যা স্থানীয় কোন সমস্যা নয়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নেত্রকোণায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার সমাধানে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। আশা করছি অচিরেই এর সমাধান সম্ভব হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।

সারাবাংলা/এনজে