Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সতর্কতা জারি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে শুধু ‘রিমাইন্ডার’: ডিবি প্রধান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৩৩

ঢাকা: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে জারি করা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেওয়া একটি ‘রিমাইন্ডার’।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাব তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো ধরেন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে থাকি, পুলিশের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাটা দেখতে দেখতে হয় কাজেই এই সতর্ক আমরা সবসময় থাকি। তবুও সম্প্রতিকালে আপনারা দেখছেন যে কয়েকটা বোমার বিষয় এসেছে এবং ফলস কিছু রিউমার ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা তৎপর এবং সব মিলিয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাটা বজায় থাকে বজায় থাকে এইজন্য এমন সতকর্তা বিভিন্ন সময় দেয়া থাকে আমাদেরকে। আগেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেন পুলিশের সকল যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে। তাই পুলিশকে আবারও নির্দেশনা দিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে যেন পুলিশ অধিক সতর্ক থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যেহেতু ইদানিংকালে বিভিন্ন সত্য মিথ্যা মিলে একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেজন্য একটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটা একটা রিমাইন্ডার।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না ওরকম স্পেসিফিক কিছু নাই তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের যারা সিনিয়র অফিসার আছেন তারা আমাদের সুপারভাইজিং। আমরা যারা ফিল্ডে বিচরণ করি তারা যেন আরেকটু সতর্ক থাকি সেই জন্য রিমাইন্ডার।

মতিঝিলের ছাতা বোমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিবি প্রধান বলেন, এটার তদন্ত সিটিটিসি করছে আমরা আসলে ছায়া তদন্ত করছি। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে তাই এখন কিছু বলা যাবে না।

এর পেছনে জড়িত কোনো সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এরকম দুই একজন তো থাকবে। এটা তো ধরেন একক ব্যক্তি হিসেবে কেউ করবে না। কেউ করলে কোনো একটা ম্যান্ডেট প্রচার বা তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য এরকম কর্মকাণ্ড করে থাকে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দফতরে অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামালে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা গাড়িগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে নিয়মিত এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে একাধিক বোমা-আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে শক্তিশালী আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরে জানানো হয়, সেটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উলটো রথযাত্রার পথ লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ছাতা বের হয়ে থাকা একটি বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেটিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

সবশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা উদ্ধার হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আজ বন্ধু দিবস!
২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৪

আরো

সম্পর্কিত খবর