Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অপারেশন ‘শরতের তুফান’ / হাসিনা-হারুনসহ ১০ জনের বিচার শুরুর আবেদনের শুনানি ১০ আগস্ট

স্টাফ করেসপন্ডেট
২ আগস্ট ২০২৬ ১৫:২৯

– ছিবি : সংগৃহীত

ঢাকা: গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আবেদনের পর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী-এর একক বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম অভিযোগ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিরোধী ও ইসলামী মতাদর্শের অনুসারীদের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’ এর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পাতারটেক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭জনকে তুলে এনে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন শরতের তুফান’-এর নামে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মরদেহ নিতে গেলে স্বজনদের বিরুদ্ধেও তদন্তের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভয়ভীতির কারণে অনেক পরিবার মরদেহ গ্রহণে এগিয়ে আসেনি। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায়।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন শুনানির জন্য সময় চান। আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ আদালতকে জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিলম্বে পাওয়ায় প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন। প্রসিকিউশন এতে আপত্তি না জানালে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট আসামিপক্ষের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোয়াট টিম লিডার) এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।

বর্তমানে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেফতার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

আজ বন্ধু দিবস!
২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৪

আরো

সম্পর্কিত খবর