ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি দ্বিতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার (২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভূঁইয়া।
শুনানি শেষে এসএম শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার আপিলের শুনানি শুরু হয়। রোববার ছিল দ্বিতীয় দিনের শুনানি। বর্তমানে আসামিপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১১ আগস্ট।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এমএম জিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যু হয়।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি (পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি) ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া ৭ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।