Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ব্যাংকের চলতি হিসাবের লিয়েন তুলে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০৩ | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০০

ঢাকা: ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।

সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪, ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো। এ অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য হতো না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যাও খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় থাকত। ফলে ওই অর্থ সিআরআর হিসাবে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত (Regulatory Ratio) বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংকাররা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর একটি অংশের আটকে থাকা অর্থ মুক্ত হবে এবং তাদের সিআরআর ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক অনুপাত ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নমনীয়তা আসবে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার ব্যবহার খুব সীমিত হয়ে পড়েছিল, তবুও পুরোনো বিধান বাতিল হওয়ায় ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর