ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যুবক মো. নাজমুল হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন-কে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম মোহাম্মদপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আখতারুজ্জামান সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে অজয় কর সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হাইকোর্টে রিট করে ‘নো শোন অ্যারেস্ট, নো হ্যারেজ’ আদেশ পেয়েছিলেন। তবে সেই আদেশ থাকার পরও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম দাবি করেন, অজয় করের নাম মামলার এজাহারে নেই। এর আগে একইভাবে তাকে আরও দুটি মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) ছিল না- বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর ভাষ্য, হাইকোর্টের দেওয়া ‘নো শোন অ্যারেস্ট, নো হ্যারেজ’ আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট সব গ্রেফতার পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং আদালতে জামিননামাও দাখিল করা হয়। এরপরও একই ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, যা হাইকোর্টের আদেশের পরিপন্থী এবং সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। দুপুরে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মো. নাজমুল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নাজমুলের এক সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে জামিন দেওয়া হলে মামলার তদন্ত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।