Monday 03 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত খুলবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ আগস্ট ২০২৬ ২১:৪৩

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, এটি শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জন্য দেশটির এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন ও যৌথ সমৃদ্ধির দৃঢ় অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করবে।

নৈশভোজে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, শক্তিশালী শিল্পভিত্তি ও বৃহৎ বাজার দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রামে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

ইয়ো হান-কু বলেন, প্রস্তাবিত সিইপিএ আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে চুক্তিটির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিইপিএ আলোচনা প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবশিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।