Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৪২

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। এই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।

বুধবার ৫ অগাস্ট রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়সের ফ্রেমে আটকে থাকে না। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আগামী দিনেও দেশের মানুষ তরুণ উদ্যমে যেকোনো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, এই আন্দোলন কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের একক নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি; বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেও যা অর্জন করতে পারেনি, তরুণদের নেতৃত্বে দেশের আপামর জনগণ একাত্ম হওয়ায় সেই ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার বিদায় ঘটেছিল। ফলে এই আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব সাধারণ জনগণের এবং নেতৃত্বের পুরো কৃতিত্ব তরুণদের।

আন্দোলনের একক কৃতিত্ব দাবি কিংবা কাউকে একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ। শহীদদের জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ উল্লেখ করে তিনি তাদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের উপযুক্ত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সরকারের পর্যালোচনার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অনেকগুলোই ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান না দেখালে তার রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হয় না উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতিস্বীকার না করে তারা জনগণের দেওয়া রায়ের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে যাবেন।

শিক্ষাঙ্গনে পুনরায় গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দেবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক লুটপাটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে তার পরিণতি ভালো হতে পারে না।

বক্তব্যের শেষে তিনি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন এবং জনদুর্ভোগ বিরোধী আগামীকালের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দও বক্তব্য প্রদান করেন।

সারাবাংলা/এনএল/এসআর