Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জেআইসিতে আটকে তারেক রহমানকে নির্যাতনের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৮

ডিজিএফআই সদর দফতরে জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) বন্দি থাকা অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডিজিএফআই সদর দফতরে অবস্থিত জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিনিধিদল এদিন জেআইসি পরিদর্শন করে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এক-এগারোর সময় তারেক রহমান-কে জেআইসির একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের দেওয়া বক্তব্য এবং প্রসিকিউশনের তদন্তে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত জেআইসি পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে আটক করে গোপনে বন্দি রাখা এবং তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হতো। পরিদর্শনের মাধ্যমে ওই সময়ের নির্মম পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এই গোপন বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ অনেককে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। এক-এগারোর সময় জেআইসির একটি কক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কেও নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

ভবিষ্যতে দেশে যেন এ ধরনের টিএফআই বা জেআইসি তথা ‘আয়নাঘর’ প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অহেতুক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার যেন কাউকে হতে না হয়, সেটিই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে একটি অমানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ‘আয়নাঘর’ নামে এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করতেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা ও ভিন্নমতের ব্যক্তিদের গুম করে এসব স্থানে আটকে রাখা হতো।

তিনি বলেন, গুমের শিকার এমন অনেক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। টিএফআই ও জেআইসিতে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তে ভবিষ্যতে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর