Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জ্বালানি তেল আমদানি-বিপণন বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ কোনো সংস্কার নয়, এটি রাষ্ট্রীয় খাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হস্তান্তরের আয়োজন। এর ফলে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ার পরিবর্তে কয়েকটি বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেল কোনো সাধারণ পণ্য নয়। এটি প্রতিরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বিমান চলাচলের জন্য অপরিহার্য। তাই জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এ খাতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতেই থাকা প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিপিসি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটকে অজুহাত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্তও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরে বলেন, বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন হয়ে থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে কী ধরনের সমীক্ষা ও খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা প্রকাশের দাবি জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাতে বেসরকারিকরণের সব উদ্যোগ স্থগিত করে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করতে হবে এবং অন্তত ৬০ দিনের জনমত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি আয়োজনেরও দাবি জানান।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাজার অর্থনীতির বিরোধী নয়, বেসরকারি বিনিয়োগেরও বিরোধী নয়। তবে জবাবদিহিহীনভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত হস্তান্তর এবং দুর্নীতির সুযোগ বিস্তারের বিরোধিতা করে দলটি।

‘সংস্কার মানে প্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিষ্ঠান বিক্রি নয়’—উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা মানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, কোনো গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়। সরকারকে এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর