ঢাকা: সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এদিন প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির-এর আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধভাবে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজশে ‘ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড’-এর নামে ইসলামী ব্যাংকের ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আবদুস ছামাদ বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেন এবং দুদককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় সাহাবুদ্দিন ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ‘ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমসহ ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।
মামলার এজাহারে সাহাবুদ্দিন-কে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে মামলার ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাকে এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদ-এর যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড’ ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। ফলে এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের বিষয়টি আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। এসব কোম্পানির অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শেয়ার স্থানান্তর, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ বিশ্লেষণ করে লেনদেনগুলো পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া এস আলম গ্রুপ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং তাদের নিয়োগ করা পরিচালকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়া অন্য আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
তবে মামলার এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পরই স্পষ্ট হবে।