Tuesday 11 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কারাগারে ডেল্টা লাইফের সাবেক সিএফও ফারহান উদ্দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ আগস্ট ২০২৬ ২০:০৫ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ২১:৩৪

ঢাকা : জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন ‘ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’-এর সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফারহান উদ্দিন। পরে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির-এর আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন ফারহান উদ্দিন। এ সময় তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ফারহান উদ্দিন-এর বিরুদ্ধে ডেল্টা লাইফের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফারহানের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী জানান, উচ্চ আদালত তার মক্কেলকে ৮ সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তবে নিম্ন আদালত জামিন না দেওয়ায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

মামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তার ভাষ্য, ডেল্টা লাইফে প্রশাসক নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা হয়েছিল। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ওই মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে ব্যয় হয়েছিল, তা তৎকালীন প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের মধ্যেই ছিল। এসব ব্যয়ের পক্ষে কোম্পানির প্রয়োজনীয় নথি ও ভাউচার রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৫ সালে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের পক্ষে শাহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মামলাটি করেন। মামলায় ফারহান উদ্দিন ছাড়াও কোম্পানিটির সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. মঞ্জুরে মাওলা, সাবেক আইনবিষয়ক পরামর্শক মো. মাহাবুব আলম খান এবং সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (আইন বিভাগ) মো. সাইফুজ্জামান-কে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানির আইনি ব্যয়ের নামে বিভিন্ন বিল ও ভাউচার তৈরি করে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে অর্থ সরিয়ে নেন। এ কাজে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনও করা হয়। আপিল বিভাগের আদেশের পর তৎকালীন প্রশাসকের সময়ের কার্যক্রম যাচাই করতে ডেল্টা লাইফের পক্ষ থেকে এম জে আবেদীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ডেল্টা লাইফের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিল ও ভাউচার উপস্থাপনের মাধ্যমে কোম্পানি থেকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারহান উদ্দিনের আইনজীবী। তার দাবি, মামলায় উল্লেখ করা ব্যয়গুলো কোম্পানির তৎকালীন প্রশাসকের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই করা হয়েছিল।